দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড: ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে পুড়িয়ে নৃশংস খুন



 








 



বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু যুবক দিপু চন্দ্র দাসকে একদল উগ্রপন্থী জনতা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে তার দেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনা ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে ঘটে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ এর নৃশংসতা প্রকাশ করে

ঘটনার পটভূমি 

দিপু চন্দ্র দাস (২৫/২৭ বছর বয়সী) তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে এবং পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানায় পোশাকশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি স্ত্রী ও দেড় বছরের এক মেয়ের সঙ্গে ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে বাস করতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে কারখানার ভিতরে তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় কটূক্তির অভিযোগ ওঠে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উত্তেজিত জনতা তৈরি হয়।���রাত প্রায় ৯টায় জামিরদিয়া এলাকায় জনতা তাকে আক্রমণ করে প্রহার শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে, তারা তাকে পিটিয়ে প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় নিয়ে যায় এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে একটি গাছে দড়ি দিয়ে বেঁধে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে রাস্তায় যানজট হয় এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়।












পরিবারের বক্তব্য 


দিপুর বাবা রবিলাল দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ঘটনার খবর জানতে পারেন। তিনি বলেন, "ফেসবুকে দেখলাম, তারপর লোকজন বলতে শুরু করল। তারা আমার ছেলেকে গাছে বেঁধে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দিয়েছে। তার পোড়া দেহটা বাইরে ফেলে রেখেছে, টর্সো আর মাথা একসঙ্গে বেঁধেছে। ভয়ংকর দৃশ্য ছিল।" পরিবার অভিযোগ করে যে কারখানার সহকর্মীরা তাকে জনতার হাতে তুলে দিয়েছে এবং সরকার কোনো সাহায্য করেনি।���মানবাধিকার কর্মী তসলিমা নাসরিন বলেন, দিপু ছিলেন দরিদ্র শ্রমিক এবং একজন মুসলিম সহকর্মী তুচ্ছ কারণে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে ফাঁসিয়েছে। পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে গেলেও জনতার হাতে তুলে দিয়েছে। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী

পুলিশ ও সরকারের ব্যবস্থা 


ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম জানান, বিপুল জনতার কারণে তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি, কিন্তু দুই ঘণ্টা চেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। র্যাব ভিডিও বিশ্লেষণ করে প্রথমে দুজনকে আটক করে, পরে জিজ্ঞাসাবাদে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করে মোট সাতজনকে (যেমন: লিমন সরকার, তারেক হোসেন ইত্যাদি)。���বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘটনার নিন্দা করে বলে, "নতুন বাংলাদেশে এমন সহিংসতার কোনো স্থান নেই। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।" বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদও নির্মম হত্যার নিন্দা করে।

প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব 


ভারতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, "ধর্মের নামে এমন হত্যা সভ্য সমাজের কলঙ্ক।" আন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী পাওয়ান কাল্যাণ ১৯৭১-এর যুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, ভারতীয় সৈন্যদের রক্তে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইউনূস সরকারকে দায়ী করে।��এ ঘটনা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, বিশেষ করে শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর চলা বিক্ষোভের মধ্যে। পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতে প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে।�





x